একনজরে রাঙ্গাবালী

প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে  স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেফতার !

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২৫, ০৩:১৭ দুপুর

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ। সেই কলহ ও নির্যাতনের জেরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে জুলেখা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যার  পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গন্ডাদুলা গ্রামে। 

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় নিহত জুলেখার স্বামী মো. বশার দফাদার (৪৫) ও বশারের দ্বিতীয় স্ত্রী কেয়া মনিকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। 

এরআগে বুধবার রাতে নিহত জুলেখার বাবা আতাহার হাওলাদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে বশার দফাদারের সঙ্গে জুলেখার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। কিন্তু এক বছর আগে গোপনে কেয়া মনিকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন বশার। এরপর থেকেই জুলেখার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষ বুধবার সকালে জুলেখার ঘর থেকে ধান নেয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী বশার ও দ্বিতীয় স্ত্রী কেয়া মনির সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হয়। একপর্যায়ে তারা জুলেখাকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুলেখা নিজ ঘরে গিয়ে গ্যাস ট্যাবলেট খান।

পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে কোড়ালিয়া স্পিডবোট ঘাটে পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়।

জুলেখার মৃত্যুর খবরে নিহতের পরিবার ও  স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বশার ও কেয়া মনিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা আতাহার হাওলাদার থানায় মামলা করেছেন। গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।