পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা ও হাপুয়াখালী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা 'মকপাড়া সরকারি খাস খাল' উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে খালের হাপুয়াখালী পাড়ে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে প্রভাবশালী চক্র যুগিরহাওলা মৌজার প্রায় ১২ একর জমির এ খালটি দখলে নিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। এতে খালের স্বাভাবিক ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার।
গ্রামবাসীরা জানান, খালটির দুই পাড়ের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্যকাজের সঙ্গে জড়িত। মাছ চাষের জন্য খালে নোনা পানি তোলা হয়। ফলে ওই পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায় না। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া একসময় স্থানীয়রা খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং গৃহস্থালি কাজেও খালের পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাছ চাষের কারণে সাধারণ মানুষ খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের দাবি, সবশেষ খালটি তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল বলে তারা শুনেছেন। সেই ইজারা বাতিল করে জনস্বার্থে খালটি উন্মুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ক্লাইমেট এ্যাকশন গ্রুপ (সিএজি) ও ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাপুয়াখালী গ্রামের কৃষক শাহজাহান প্যাদা, মিঠন হাওলাদার, মনির মাতুব্বর, মহসিন প্যাদা ও গৃহিণী নাসিমা বেগমসহ আরও অনেকে। বক্তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে খাল ইজারাগ্রহীতা পক্ষের স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল তালুকদার বলেন, '২০০৬ সালে খালটি বিএস জরিপে খাস হয়ে যায় জেলা প্রশাসকের নামে। সে অনুযায়ী বাংলা ১৪৩২ থেকে ১৪৩৪ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য জলমহাল ইজারা দরপত্র আহবান করলে এই খালটির জন্য পাঁচজন ফরম দাখিল করেন। এরমধ্যে মজিবর খা যে মৎস্য সমিতির সভাপতি, সেই সমিতি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে খালটি ইজারা পায়। একটি পক্ষ খালটি ইজারা না পেয়ে আমাদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে।'
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতেও একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জেনেছি। আদালতের সিদ্ধান্ত জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।